গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি

0
19

জেলা প্রতিনিধি: টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আশা ঢলে গাইবান্ধায় তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বাড়তে থাকায় জেলার ৫ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকলেও বানভাসিদের মাঝে তীব্র খাবার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে করতোয়া নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করতোয়া নদীর পানি ৩০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ।

জানা গেছে , যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী, হলদিয়া ও জুমারবাড়ী, সাঘাটা ইউনিয়নের পালপাড়া, চিনিরপটল, চকপাড়া, পবনতাইড়, থৈকরপাড়া, বাঁশহাটা, মুন্সিরহাট, গোবিন্দি, নলছিয়াসহ ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদ ও যমুনা নদীর ডান তীরঘেঁষা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি চরম হুমকির মুখে রয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর, কাপাসিয়া, তারাপুর, বেলকা, হরিপুর ও শ্রীপুর গ্রাম বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এ উপজেলার ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় রয়েছে চরাঞ্চলের মানুষ। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়া এসব মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশন সমস্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়া পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ উপজেলার ২০টি গ্রাম পানির নিচে রয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় করতোয়া নদীবেষ্টিত সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধির ফলে গত কয়েক বছরের মতো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যেকোনো সময় দেখা দিতে পারে ভয়াবহ বন্যা। তাই বন্যা আতঙ্কে রয়েছেন জেলার সাত উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা গ্রামের গফুর মন্ডল জানান, বন্যার কারণে আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। চতুর্দিকে পানি আর পানি। দিনভর বৃষ্টিতে ভোগান্তি বাড়ছে। পানিবাহিত রোগ দেখা দিলেও নেই কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা।

সাঘাটার বাশহাটা গ্রামের কছিমন বেগম বলেন, ওপরে বৃষ্টির পানি, নিচে বন্যার পানি। হামরা এখন কই যামো? থাকমো কই?

সাঘাটার হলদিয়া ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের কালাম মিয়া বলেন, খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টি। ঘরের মাঝে পানি হামরা এখন কই যাই। তিনদিনের বৃষ্টিতে জীবর শেষ।

ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের নৌকার মাঝি সেলিম মিয়া বলেন, হামরা এখন বিপদে। দেখপার (দেখার) কেউ নাই। সারাদিন বৃষ্টি ঝরায় নৌকা চালাবার পারছি না। সংসার চলে ক্যামনে?

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের সোনাইডাঙ্গা গ্রামের ময়েন উদ্দিন জানান, বন্যার কারণে আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। গরু-ছাগল দিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর জানান, বন্যা কবলিত মানুষদের তালিকা করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা একেএম ইদ্রিস আলী জানান, গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের ৬০টি গ্রামের এক লাখ ৪৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

গাইবান্ধারে সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় ৬১টি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

সার্বিক বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা অব্যাহত আছে। আমরা বন্যাকবলিত মানুষদের ২৪ ঘণ্টা বন্যা নিয়ন্ত্রণ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here