বলিউডের নামী পরিচালক স্ত্রী-মেয়েকে খুন করে আত্মঘাতী

0
58

বিনোদন ডেস্ক: সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু নিছক আত্মহত্যা নাকি দীর্ঘ পরিকল্পনা করে খুন তা নিয়ে দেশ তোলপাড়। ফ্যানেরা মৃত্যুর এতদিন পরেও কোনও ভাবেই একে আত্মহত্যা মেনে নিতে নারাজ। সুশান্তের পরিবারও বিভিন্ন বিষয়ে বলিউডের প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তবে সরাসরি কোনও অভিযোগ কারও নামে করেননি। সুশান্তের মৃত্যু নিয়ে মুম্বই পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে, যদিও এই মৃত্যুর ঘটনায় অভিনেতার ফ্যানেরা সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন।

যদিও এই মৃত্যু ফের একবার মানসিক অবসাদকে সামনে এনে দিয়েছে। রুপোলি পর্দার দুনিয়ায় ঝাঁ-চকচকে গ্ল্যামারের পিছনেও যে একটা অন্ধকার থাকে, যা ধীরে ধীরে গ্রাস করে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায় সেকথা ফের একবার সামনে চলে এসেছে। তবে সুশান্তই প্রথম নন। বলিউডে মানসিক অবসাদের জেরে নিজের প্রাণ নিয়ে নেওয়ার এমন উদাহরণ আগেও রয়েছে।

এমনই একজন মানুষ হলেন বলিউডের বিখ্যাত পরিচালক-প্রযোজক ব্রিজমোহন সদানাহ। ব্রিজ নামেই তাঁকে সবচেয়ে বেশি মানুষ চিনতেন। ১৯৬০ থেকে ৮০ সালের মধ্যে একাধিক হিট সিনেমা তিনি দর্শককে উপহার দিয়েছিলেন। তার মধ্যে রয়েছে উস্তাদো কে উস্তাদ, ইয়ে রাত ফির না আয়েগি, দো ভাই এবং ভিক্টোরিয়া নম্বর ২০৩। বলিউডের সিনেমাজগতে এগুলি একেকটা মাস্টারপিস বললেও কম বলা হয়।

খুব কম সময়ের জন্য বলিউডের নায়িকা হওয়া সঈদা খানকে বিয়ে করেছিলেন ব্রিজ। তাঁদের দুই ছেলেমেয়ে। নম্রতা ও কমল সদানাহ। তবে সংসারে কোনও শান্তি কোনওদিনই সেই ভাবে ছিল না। মেয়ের নম্রতার কথায়, বাড়িতে প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়া-অশান্তি চলত। একদিন ফাইনাল অশান্তি হয়েছিল বাড়িতে।

যশ ও খ্যাতির পাশাপাশি নায়িকা সঈদার স্বপ্ন ছিল ভালোবাসার নীড়ের। তাঁর স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল। নিজের সময়ের সেরা প্রযোজক ব্রিজ তাঁকে বিয়ে করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন ছেলেও। কিন্তু ছেলেকে নায়কের ভূমিকায় দেখে যেতে পারেননি সঈদা খান। তার আগেই ছেলের জন্মদিনে স্বামীর গুলিতে মৃত্যু হয় সাদাকালো যুগের এই নায়িকার।

দিনটা ছিল ১৯৯০-এর ২১ অক্টোবর। ছেলে কমলের জন্মদিন। বন্ধুবান্ধবদের জন্য পার্টির ব্যবস্থা করছিলেন তিনি। পরে কমল পুলিশকে জানান, বাড়ির একতলায় সে সময় তাঁর বাবা মায়ের মধ্যে তীব্র ঝগড়া চলছিল। তাঁর বাবা সে সময় মদ্যপ ছিলেন বলে জানান কমল। কমলের দাবি, আচমকাই গুলির শব্দ পেয়ে তিনি ছুটে যান। দেখেন, তাঁর মা রক্তের স্রোতে ভাসছেন। কমলের সামনে মাকে বাঁচাতে ছুটে আসেন তাঁর বোন, নম্রতা। কিন্তু রাগে অন্ধ হয়ে ব্রিজ সাদানা মেয়েকেও হত্যা করেন।

পুলিশের কাছে কমল জানিয়েছিলেন, চোখের সামনে বোনকে লুটিয়ে পড়তে দেখেন তিনি। গুলি লেগেছিল কমলের গলাতেও। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করার পরে নিজেও আত্মঘাতী হন ব্রিজ সাদানা। এই রক্তাক্ত ঘটনার পরে কমল সাদানার জীবন কার্যত থমকে যায়। তিনি নিজের জন্মদিন পালন করা বন্ধ করে দেন। তার পরেও জীবনের পথে ফিরে আসেন তিনি। মায়ের পথ অনুসরণ করে পা রাখেন অভিনয়ের দুনিয়ায়। ১৯৯২ সালে মুক্তি পায় কাজলের বিপরীতে তাঁর প্রথম ছবি ‘বেখুদি’। এই ছবিটি সে রকম সফল না হলেও তার পরের বছর ১৯৯৩ সালে দিব্যা ভারতীর সঙ্গে জুটি বেঁধে কমলের ‘রং’ সিনেমাটি সফল হয়।

এর পর নব্বইয়ের দশকে আরও বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। কিন্ত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। শেষে বলিউড ছেড়ে‌ বিদায় নেন কমল সাদানা। পরে ফিরে এসেছিলেন প্রযোজক হিসেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here