বিশ্বে করোনা আক্রান্ত পৌনে এক কোটি ছাড়াল

0
29

যমুনা নিউজ ডেস্ক: নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারিতে বিশ্বজুড়ে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা পৌনে এক কোটি ছাড়িয়েছে। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ নথিভুক্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৬ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮৩ জন। এরই মধ্যে রোগটিতে প্রাণ হারিয়েছে চার লাখ ২৫ হাজার ৮০৩ জন। আর সুস্থ হয়েছে সাড়ে ৩৮ লাখেরও বেশি রোগী। এর আগে গত ৬ মে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩৯ লাখ। অর্থাৎ মাত্র ৩৭ দিনের ব্যবধানে সংক্রমিতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে করোনার এ চিত্র পাওয়া গেছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে প্রথমবারের মতো মানবদেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সেখানকার একটি বন্য প্রাণীর বাজার থেকে ভাইরাসটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। তবে এখনো ভাইরাসটির উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিষেধক উদ্ভাবনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এমন শতাধিক প্রকল্পের মধ্যে বেশ কয়েকটি এরই মধ্যে আশার বাণী শুনিয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কার্যকর প্রতিষেধক বাজারে আসতে পারে বলে ঘোষণা দিয়েছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

করোনা মহামারিতে বিভিন্ন দেশে লকডাউন জারির কারণে ভেঙে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতির চাকা। জীবন-জীবিকা নিয়ে সংকটে লাখ লাখ মানুষ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশে দেশে নানা সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। নতুন বাস্তবতার সঙ্গে টিকে থাকার চেষ্টা করছে কোটি কোটি মানুষ।

সংক্রমণে যুক্তরাজ্যকে পেছনে ফেলল ভারত আক্রান্তের নিরিখে ইতালি, স্পেনকে আগেই ছাপিয়ে গিয়েছিল ভারত। এবার যুক্তরাজ্যকে পেছনে ফেলে বিশ্বে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে পৌঁছাল প্রতিবেশী দেশটি। সেখানে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধিতে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন রেকর্ড। বর্তমানে আক্রান্তের বিচারে ভারতের সামনে আছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও রাশিয়া। অবশ্য আক্রান্তে তৃতীয় অবস্থানে থাকা রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সংক্রমণের ফারাক দুই লাখের বেশি। গত ২৪ মে পর্যন্ত আক্রান্তের নিরিখে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে দশম স্থানে ছিল ভারত। পরের ১৮ দিনেই দেশটি চতুর্থ স্থানে উঠে এলো।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে গতকাল সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার ৯৫৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ভারতে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা এই প্রথম ১০ হাজার ছাড়াল। সব মিলিয়ে দেশটিতে নথিভুক্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৯৭ হাজার ৫৩৫ জন। যুক্তরাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ৯১ হাজার ৫০০।

মুখ থুবড়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ভারতে কড়াকড়ি শিথিল করা হয়েছে। এখনো যেসব নিষেধাজ্ঞা বলবৎ আছে, ধীরে ধীরে তা-ও উঠবে। এখনো মেট্রো রেল চালু হয়নি, লোকাল ট্রেন পরিষেবাও বন্ধ আছে। আগস্টের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই। নিয়মিত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটও চালু হয়নি। এসব কারণে ভারতে এখন সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ধীরে ধীরে বিধিনিষেধ সব উঠে গেলে সংক্রমণ কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা নিয়ে পরিষ্কার ধারণা দিতে পারেননি তাঁরা।

গত ৩০ জানুয়ারি কেরালায় প্রথম রোগী শনাক্ত হলেও সংক্রমণ প্রতিরোধে ভারত মার্চের শেষ সপ্তাহে দেশজুড়ে লকডাউন দিয়েছিল। সে সময় দেশটিতে নতুন করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল পাঁচ শতাধিক; মৃত্যু হয়েছিল ১০ জনের। আর সব শেষ সাত দিনে দেশটিতে প্রতিদিন ৯ হাজারের বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। সব শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছেন ৩৯৬ জন। তাতে করে দেশটিতে করোনায় প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৪৯৮ জনে।

‘দিল্লিতে রোগীদের সঙ্গে পশুর চেয়েও বাজে আচরণ করা হচ্ছে’ : দিল্লি সরকারকে তিরস্কারের সুরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, কভিড-১৯ রোগীদের সঙ্গে পশুর চেয়েও খারাপ আচরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশটির রাজধানীতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তা নিয়েও গতকাল ক্ষোভ প্রকাশ করেন দেশটির শীর্ষ আদালত।

আদালত বলেন, ‘এক করোনা রোগীর দেহ আবর্জনার স্তূপের মধ্যে পাওয়া গেছে। একের পর এক রোগী মারা যাচ্ছে কিন্তু কেউ তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না।’

দিল্লিতে কেন কমসংখ্যক করোনা টেস্ট হচ্ছে সে বিষয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকারকে তলব করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেন, ‘যখন চেন্নাই ও মুম্বাইয়ে করোনা টেস্টের সংখ্যা দৈনিক ১৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৭ হাজার করা হচ্ছে, তখন দিল্লিতে কেন এক দিনে পরীক্ষা সাত হাজার থেকে পাঁচ হাজারে নেমে গেছে?’

আদালত বলেন, দিল্লির হাসপাতালগুলোতে মরদেহ সঠিকভাবে রাখা হচ্ছে না। পরিবারকেও মৃত্যুর খবর ঠিকমতো জানানো হচ্ছে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারেনি। হাসপাতালে যথেষ্ট বেড থাকা সত্ত্বেও ভর্তি হওয়ার জন্য রোগীদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে।

করোনা সংক্রমণে মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুর পরেই তৃতীয় স্থানে আছে দিল্লি। সেখানে এরই মধ্যে ৩৪ হাজার ৬৮৭ জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি মিলেছে। মারা গেছেন এক হাজার ৮৫ জন।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আশঙ্কা, দিল্লিতে যেভাবে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তাতে আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সেখানে করোনা রোগীর সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখে পৌঁছাবে। তবে এই মহামারি মোকাবেলায় তাঁর সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

পেরুতে ১৭০ পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু : পেরুতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১৭০ পুলিশ কর্মকর্তা মারা গেছেন। করোনা মোকাবেলায় দেশজুড়ে লকডাউন জারি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল গ্যাস্টন রদ্রিগুয়েজ এ কথা জানিয়েছেন।

রদ্রিগুয়েজ বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আমাদের ৯ হাজার ৯০০ পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৭০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে কমপক্ষে এক হাজার জনের করোনা উপসর্গ রয়েছে। ঝুঁকির মুখে থাকা আরো চার হাজার পুলিশ সদস্যকে বাধ্যতামূলকভাবে আলাদা রাখা হয়েছে।’

সূত্র : এনডিটিভি, এএফপি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here