লাদাখ নিয়ে সর্বদল বৈঠকে তোপের মুখে মোদি

0
37

অনলাইন ডেস্ক: লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চিনের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ভারতের উত্তর সীমান্তে সামরিক তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে। ভারতজুড়ে চিন বিরোধী জনরোষ তীব্র হচ্ছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে শুক্রবার বিকেল পাঁচটার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০টি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের সভাপতিদের নিয়ে বৈঠক করেন। তিনি দিল্লির ৭ নম্বর লোক কল্যাণ মার্গ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সবার সঙ্গে কথা বলেন। এই বৈঠকে বিরোধী দলগুলি লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ঠিক কী হয়েছিল সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সরকারের কাছে জানতে চান।

তার আগে বৈঠকের শুরুতেই গালওয়ান উপত্যকায় যে ভারতীয় জওয়ানরা শহিদ হয়েছেন তাঁদের স্মৃতিতে নীরবতা পালন করেন সকলে। তারপর লাদাখের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা শুরু হয় সর্বদলীয় ওই বৈঠকে।

কেন্দ্রের সমালোচনা করে কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘আরও আগে এই সর্বদলীয় বৈঠক হওয়া উচিত ছিল। এমনকী এত দেরি হয়ে যাওয়ার পরেও আমরা অন্ধকারে রয়েছি। এ সম্পর্কে সরকারের কাছে আরও কিছু জানতে চায় কংগ্রেস। কত তারিখে চিনের সেনা আমাদের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছিল? কখন সরকার এটা বুঝতে পারল? সরকারের কাছে কী স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি আছে? গোয়েন্দারা কী সরকারকে এই সম্পর্কে আগে সতর্ক করেননি? এখনও ওখানকার পরিস্থিতি কী তা নিয়ে আমরা কিছু জানতে পারছি না। পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছি।’

সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাঙ্গ বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীর উপর পুরো আস্থা রয়েছে। অতীতেও যখন দেশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তখনও প্রধানমন্ত্রী নজির সৃষ্টিকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

এনসিপি (NCP) প্রধান ও প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শরদ পাওয়ার বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে জওয়ানরা ওখানে অস্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন কি না সেটা দেখতে হবে। এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ের প্রতি আমাদের সম্মান জানাতে হবে।’

এই ভিডিও কনফারেন্সে কংগ্রেস, তৃণমূল ও বিজেডি-সহ ২০টি রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা, কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, তৃণমূল সুপ্রিমো ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শিব সেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে-সহ অনেকে। পাঁচটি করে সাংসদ না থাকায় এই বৈঠকে ডাক পাননি আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল, আরজেডির লালুপ্রসাদ যাদব ও এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here