চীনের ছলচাতুরিতে বিশ্বে করোনা ছড়িয়েছে: ট্রাম্প

0
52

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার জন্য আবারো চীনকে দায়ী করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ দোষারোপ করেন তিনি। এ সময় চীনকে জবাবদিহির আওতায় আনারও হুমকি দেন ট্রাম্প। খবর এনডিটিভির।

মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের জন্য যথারীতি চীনের দিকে আঙ্গুল তুলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা চীন থেকে আসা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছি। চীনের এটিকে গোপন রাখা, ছলচাতুরি ও তথ্য লুকানোর কারণে ভাইরাসটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এর জন্য চীনকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য করা হবে।’

এর আগেও ট্রাম্প করোনা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে চীনকে দোষারোপ করেছেন। গত ডিসেম্বরের শেষদিকে প্রথম চীনের উহান শহরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে।

হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান, প্যারাশুট জাম্পিং, যুদ্ধবিমানের ফ্লাইংপাস্টসহ নানা আয়োজন ছিল। তবে করোনার প্রাদুর্ভাবের এই কালে অতিথিদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় কিংবা মাস্কের ব্যবহার-কোনোটাই ছিল না। যদিও ট্রাম্প মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত ঘটনাগুলোর ৯৯ শতাংশই ক্ষতিকর নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনার শনাক্ত পরীক্ষার হার সবচেয়ে বেশি দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা প্রায় চার কোটি মানুষের পরীক্ষা করেছি। এটা করার মাধ্যমে দেখতে পেয়েছি, এর ৯৯ শতাংশ একেবারেই ক্ষতিকর নয়। এই ফল অন্য কোনো দেশ দেখাতে পারবে না। কারণ আমাদের যে টেস্টিং সুবিধা আছে তা কোনো দেশের নেই-সেটা সংখ্যার দিকে থেকে কিংবা মানের দিক থেকে।’

ট্রাম্প এই ‘৯৯ শতাংশ একেবারেই ক্ষতিকর নয়’ এই তথ্য কোথা থেকে পেলেন, সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি।

করোনার ভ্যাকসিন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা করোনার ভ্যাকসিন তৈরি, চিকিৎসা ও থেরাপিতে অবিশ্বাস্য রকমের সাফল্য পেয়েছি। আমি সেজন্য দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা অতি দ্রুততার সঙ্গে জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন আবিষ্কারে সচেষ্ট রয়েছেন। এ বছর শেষ হওয়ার আগেই আমরা ভ্যাকসিন পাবো।’

উল্লেখ্য, বিশ্বে করোনার সংক্রমণ ও প্রাণহানিতে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এ পর্যন্ত ২৯ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত এবং ১ লাখ ৩২ হাজার ৩১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশটির চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর্যায়ে রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here