তেহরানে ক্লিনিকে বিস্ফোরণে নিহত ১৯

0
34

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মঙ্গলবার ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে এক মেডিক্যাল ক্লিনিকে জোরালো বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা ছ’জন। সরকারি আধিকারিকদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থা ফার্স ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। পরে, বিবিসি সূত্রে ১৯ জনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি সূত্রেও ১৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।

তেহরানের ডেপুটি গভর্নর হামিদ রেজা গৌদারজি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, তেহরান বিস্ফোরণের (The blast) সঙ্গে নাশকতার যোগ নেই। এটি একটি দুর্ঘটনা। গ্যাস লিক (gas leak) করেই সিনা আথার নামের ওই ক্লিনিকে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরাজ হারিরচি জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে (explosion) নিহত ১৯ জনের মধ্যে ১০ জনই মহিলা। বাকিরা পুরুষ। বিস্ফোরণের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিয়ো ক্লিপিং পোস্ট হয়। একটি ভিডিয়োয় উত্তর তেহরানের ওই মেডিক্যাল ক্লিনিকে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। আর একটি ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের পর বড় ল্যাডার দিয়ে ওই মেডিক্যাল বিল্ডিংয়ের ছাদে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অগ্নিপ্রতিরোধ দফতরের কর্মী-আধিকারিকেরা।

রাষ্ট্রীয় টিভিতে তেহরানের দমকল বাহিনীর মুখপাত্র জালাল মালেকি জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের জেরে মেডিক্যাল বিল্ডিংয়ে আগুন লেগে গিয়েছিল। দমকলকর্মীরা তা নিভিয়ে ফেলেছেন। বিস্ফোরণের সময় ওই ভবনের ভিতরে ২৫ কর্মী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ইরানের বার্তা সংস্থা ইসনাকে মালেকি জানান, হতাহতদের মধ্যে অনেকেই ক্লিনিকে উপরের তলায় অপারেশন রুমে ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত তাপ এবং ঘন ধোঁয়া.শ্বাসকষ্টে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।

গত সপ্তাহে তেহরানে একটি সামরিক অঞ্চলের কাছে বিস্ফোরণ ঘটেছিল। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায়, একটি গ্যাস স্টোরেজের ট্যাংক লিক করেই ওই বিস্ফোরণ ঘটেছিল। কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

যদিও ইরানের রাজধানী তেহরানের পূর্বে আলবোরজ পর্বতমালার কাছে বিকট ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। স্যাটেলাইট ছবি থেকে ধারণা, ওই এলাকায় মাটির নীচে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ কেন্দ্রে বিস্ফোরণটি ঘটেছে। ছবিতে দেখা যায়, তেহরানের আকশে বিস্ফোরণের এক বিশাল আগুনের গোলা। যদিও ইরান এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেনি।

আরব নিউজ সূত্রে খবর, বিস্ফোরণের কারণে তেহরানের ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে, ভেঙেছে জানালার কাচ। স্থানীয় বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো ঘটনাস্থলের খুব বেশি ফুটেজ দেখায়নি। তারা শুধু রাস্তায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরিত সিলিন্ডার দেখিয়েছে। কেন এই বিস্ফোরণ সে বিষয়েও তেমন কিছু উল্লেখ করেনি।

এই ঘটনার পর ইরানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকরে মুখপাত্র ডেভুড আবদি বলেন, গ্যাস লিকের কারণে এই বিস্ফোরণ হয়েছে। তবে বলতে পারছি না ঠিক কী কারণে গ্যাস লিক হয়েছে। এই ঘটনায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

আরব নিউজ বলছে, ডেভুড আবদি ওই এলাকাকে লোকাল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু বিস্ফোরণের পর সেখানে সেনাকর্তাদের আগুন নেভাতে দেখা গিয়েছে। যদি লোকাল এলাকায় এ রকম ঘটনা ঘটে, তা হলে সাধারণত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম ঘটনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক এন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাজিজের এক প্রতিবেদন বলছে, ইরানের যে এলাকাটিতে বিস্ফোরণ হয়েছে সেখানে বেশ কয়েকটি সুরঙ্গ আছে। এই সুরঙ্গগুলো মাটির বেশ গভীরে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের সামরিক গবেষণা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের কাজ হয়ে থাকে সেখানে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here