বানভাসি মানুষ নদীভাঙনে দিশেহারা

0
52

গ্লোবালভিশন ডেস্ক: বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও বন্যার পানি নামছে ধীরগতিতে। ফলে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। নদনদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে ব্যাপক ভাঙন। একের পর এক নদীতে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বানভাসি মানুষ। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী মানুষের ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে। অথচ ভাঙন রোধে নেই সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সিরাজগঞ্জ : মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আবারও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে সিরাজগঞ্জের সিমলায় পাউবোর স্পারবাঁধ। স্পার বাঁধের প্রায় ৭০ মিটার অংশ (মাটির শ্যাঙ্ক) গত বুধবার রাতে যমুনা নদীর প্রবল স্রোতে ধসে গেছে। বাঁধের অভ্যন্তরে পাঁচঠাকুরী এলাকার প্রায় ৫০টি বসতবাড়ি নদীতে বিলীনের আশঙ্কায় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বাঁধসংলগ্ন কয়েকশ’ পরিবার। আতঙ্কে বাড়িঘর দ্রুত সরিয়ে নিচ্ছে নদীতীরের মানুষজন। ছোনগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল আলমসহ স্থানীয়রা জানান, ধস অব্যাহত থাকায় আতঙ্কের মধ্যে নদীপাড়ের মানুষজন। ধস ঠেকাতে গতানুগতিক বালুর বস্তা ফেলছে পাউবো।

পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি সংস্কার করা স্থানসহ বাঁধের প্রায় ৭০ মিটার নদীতে ধসে গেছে। ধসে যাওয়া স্থানে জিওব্যাগ ফেলে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

নেত্রকোনা : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে নেত্রকোনার প্রধান নদী সোমেশ্বরী, উদ্ধাখালী, কংস, ধনুসহ বিভিন্ন নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে জেলার বারহাট্টা, আটপাড়া, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, পূর্বধলা, মোহনগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। ছয়টি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অভ্যন্তরীণ সড়ক ভেঙে ও পানিতে ডুবে গেছে। এসব এলাকার মানুষকে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এ ছাড়া দুর্গাপুর, বারহাট্টা, কলমাকান্দায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন।

জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন নদীর পানি বেড়েছে। কলমাকান্দায় দুই হাজারের অধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু আমন বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) : নদীভাঙনে নাকাল উলিপুরের তিস্তাপাড়ের হোকডাঙ্গা মৌজার মানুষ। গত ৩ বছর ধরে বিরামহীন ভাঙছে তিস্তা নদী। কিন্তু ভাঙনরোধে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ নেই। প্রতিদিন নদীতে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, গাছপালা, ফসলি জমি। গত দুই সপ্তাহে নদীভাঙনে ২৫টি পরিবার সবকিছু হারিয়ে পথে বসেছে। ভাঙনরোধে সরকারি উদ্যোগ না থাকায় গত ২৬ জুন ভাঙনকবলিত গ্রামের মানুষ একজোট হয়ে বাঁশের পাইলিং দিয়েছে। তবু রোধ হচ্ছে না ভাঙন।

নদীভাঙন কবলিত ডাক্তার পাড়া ও হিন্দুপাড়া গ্রামের শতাধিক পরিবার অব্যাহত নদীভাঙনের ঝুঁকিতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

ছাতক (সুনামগঞ্জ): ছাতকে বন্যা পরিস্থিতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। বুধবার টানা বৃষ্টির কারণে নদীর পানি নামছে খুব ধীরগতিতে। উপজেলা ১৩টি ইউনিয়নের অন্তত ৫০টি গ্রামের লোকজন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ছাতকের সুরমা নদীর বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ও চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

দোহার (ঢাকা): দোহার উপজেলার মৈনটঘাট, নয়াবাড়ি, বাহ্রাঘাট, বিলাশপুর, নারিশাবাজার এলাকার বিভিন্ন স্থানে পদ্মার ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্ষার শুরুতেই পদ্মা নদীর পানি বেড়ে আবার কমতে থাকায় এই ভাঙন শুরু হয়েছে।

গত ৭ দিনে উপজেলার প্রায় ১০ কিলোমিটার নদীর পাড় এলাকায় থেমে থেমে ভাঙন শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, করোনাকাল শেষ হলে নদীতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

দশমিনা (পটুয়াখালী) : তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে দশমিনা উপজেলার ১৭টি গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনের কারণে দশমিনা উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার একর ফসলি জমি, ১১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, সাইক্লোন শেল্টার, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

শিবচর (মাদারীপুর) : পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পেয়ে শিবচরের ৩ ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়ায় চরজানাজাত ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িসহ শতাধিক বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে একাধিক স্কুলভবন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কমিউনিটি ক্লিনিক, বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। নদীতে বিলীন হয়েছে বন্দরখোলার অস্থায়ী বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here