ভারত-চিন সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় লেহ-তে মোদী

0
62

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: লেহ-তে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারত ও চিনের সেনাদের মধ্যে ১৫ জুনের সংঘর্ষ ও তাতে ২০ ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনার পর এই প্রথম তিনি ওই এলাকায় পরিদর্শনে গেলেন। চিনকে যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারতীয় বাহিনী।

শুক্রবার ১১,০০০ ফিট উচ্চতায় লেহ-তে গিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা ও ITBP জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর গলওয়ানে জখম সৈনিকদের সঙ্গে তাঁর দেখা করার কথা।

এ দিন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত ও নর্দার্ন আর্মি কমান্ডারের আধিকারিক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াইকে যোশি এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিং-এর সঙ্গে লাদাখের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখবেন নরেন্দ্র মোদী।

এর আগে, মন কি বাতে এ প্রসঙ্গে মতপ্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, লাদাখে ভারতীয় ভূখণ্ডের দিকে যারা নজর দেওয়ার সাহস দেখিয়েছে, তাদের যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারত। লাদাখে শহিদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি চিনকে তাদের কৃতকর্মের জন্য মানুষের অর্থনৈতিক ধাক্কা দেওয়ারও সাধুবাদ দেন তিনি। আত্মনির্ভর ভারত চিনা দ্রব্য বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান নমো।

রবিবার মাসিক রেডিয়ো বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা লাদাখে ভারতীয় ভূখণ্ডের দিকে তাকানোর সাহস দেখিয়েছে, তাদের যোগ্য জবাব দেওয়া হয়েছে। কী ভাবে বন্ধুত্ব রাখতে হয়, সেটা যেমন ভারত জানে, তেমনই কী ভাবে কারও সঙ্গে যুঝতে হয় এবং জবাব দিতে হয়, সেটাও দেশের জানা রয়েছে। কারওকে ভারত মাতার সম্মান খর্ব করার অনুমতি যে দেওয়া হবে না, তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন আমাদের সাহসী জওয়ানরা।’

শুক্রবার লাদাখ সফরে যাওয়ার কথা ছিল প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর। সঙ্গে যাওয়ার কথা ছিল সেনাপ্রধানেরও। কিন্তু, শেষ মুহূর্তে সফর স্থগিত করে দেওয়া হয়। সফর স্থগিত করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক শক্তিবৃদ্ধিতে খামতি রাখতে চাইছে না নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ২১টি ‘মিগ-২৯’ এবং ১২টি ‘সুখোই- ৩০’ যুদ্ধবিমান কিনবে দেশ। রাশিয়া থেকে কেনা হবে সুখোই আর মিগ নির্মাণের বরাত দেওয়া হবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হ্যালকে৷ পাশাপাশি চলবে ৫৯টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের আধুনিকীকরণের কাজও। এই দায়িত্ব হ্যালকেই দেওয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, পূর্ব লাদাখের বর্তমান অচলাবস্থার কারণ, ভারতীয় সেনার টহলদারি নিয়ে চিনের আপত্তি। প্যাংগং লেকের ফিঙ্গার ৪ থেকে ফিঙ্গার ৮ পর্যন্ত এলাকায় ভারতীয় সেনাকে টহলদারি করতে দিতে নারাজ লাল ফৌজ। অথচ, এটা ভারতেরই এলাকা এবং দরবুক থেকে দৌলত বেগ ওল্ডি পর্যন্ত তৈরি রাস্তার উপরে নজর রাখতে হলে এই টহলদারি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here