মিসকলে প্রেম শুরু, ধর্ষণ শেষে হত্যা

0
51

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কচুক্ষেত থেকে লাভলী আক্তার (৩০) নামে এক গার্মেন্টসকর্মীর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে ডিবি পুলিশ। সেই সঙ্গে ঘাতক রাজাবালীকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে রাজাবালী।

ময়মনসিংহ জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রায় ছয় মাস আগে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে রাজাবালীর সঙ্গে পরিচয় ঘটে লাভলীর। এরপর প্রেম ও একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও হয় তাদের মধ্যে। অনেকদিন ধরেই বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল লাভলী। তবে বিয়ে করতে নারাজ ছিল রাজাবালী। প্রথমবার ডেকে এনে ভালোভাবে তাকে ফেরত পাঠালেও দ্বিতীয়বার গত ৯ জুন বিয়ে করবে বলে ফের ডেকে এনে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে একটি কচুক্ষেতে লাভলী আক্তারের বিবস্ত্র মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায় রাজাবালী।

ওসি আরও জানান, পরদিন সকালে সেই মরদেহ উদ্ধারের পর অভিযানে নামে ডিবি পুলিশ। ওই নারীর সঙ্গে থাকা একটি ভ্যানিটি ব্যাগের ভেতরে কাগজে লিখা একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরদিন নিহতের বাবা ফুলবাড়িয়া থানায় একটি মামলা করেন। শুরু থেকেই পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করতে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন সংস্থা মাঠে কাজ করতে থাকে। টানা প্রায় ৪৮ ঘণ্টা মাঠে থেকে তথ্যানুসন্ধান চালিয়ে ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল ঘাতককে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক রাজাবালী হত্যার দায় স্বীকার করে। পরে শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, ফুলবাড়িয়ার বাসিন্দা রাজাবালীর স্ত্রীসহ তিন সন্তান রয়েছে। প্রায় ২০ বছর আগে সে বিয়ে করেছে। অপরদিকে লাভলী আক্তারেরও আগে একটি বিয়ে হয়েছিল। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় বছর দুয়েক ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়িতে ভাড়া বাসায় থেকে গার্মেন্টেসে কাজ করতেন। ওই সংসারে ৭ বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতি থানার ছিন্নাই পাড়া গ্রামে।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান জানান, অজ্ঞাত মরদেহ হওয়ায় এর রহস্য উদঘাটন পুলিশের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল । তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অপরাধীকে শনাক্ত করা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here