রিজেন্টের এমডির তথ্যের ভিত্তিতেই সাহেদকে গ্রেপ্তার: র‌্যাব ডিজি

0
30

স্টাফ রিপোর্টার: রিজেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। বুধবার বিকেলে র‌্যাব সদরদপ্তরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের কাপাশিয়া থেকে মাসুদ পারভেজকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদের কাছ থেকে সাহেদের পালানোর রুট সম্পর্কে সম্ভাব্য ধারণা পাওয়া গেছে জানিয়ে র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ‘মাসুদ পারভেজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা র‌্যাব-৬ এর সহায়তায় মঙ্গলবার রাতে সাতক্ষীরা সীমান্তে অভিযান চালায় এবং ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে দেবহাটা উপজেলার শাখরা কোমরপুর সীমান্ত থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে। এরপর হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনার পর দুপুরে উত্তরায় সাহেদের অন্য একটি অফিসে অভিযান চালানো হয়। ওই অফিস থেকে এক লাখ ৪৬ হাজার জাল টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাহেদ একজন প্রতারক ও চালাক ব্যক্তি। এমএলএম ব্যবসার মাধ্যমে তিনি প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছেন। আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারি যে, তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় প্রায় ৫০টি মামলা হয়েছে। মামলাগুলো আমরা যাচাই করছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের ডিজি জানান, গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য সাহেদ গত ৯ দিনে কক্সবাজার, ঢাকা, কুমিল্লা ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল।

তিনি আরও জানান, রিজেন্ট হাসপাতালে করোনাভাইরাসের ভুয়া সনদ দেওয়ার অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলায় সাহেদকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার কাছে সোপর্দ করা হবে। ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা এ মামলাটির তদন্ত করছে।

গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব। পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছিল তারা। অভিযানে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অন্তত ছয় হাজার ভুয়া করোনা পরীক্ষার সনদ পাওয়ার প্রমাণ পায়।

পরের দিন ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয়। একই সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ওই দিনই উত্তরা পশ্চিম থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে র‌্যাব।

এরপর গত ১৩ জুলাই অর্থ আত্মসাতের পৃথক দু’টি মামলায় সাহেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। আদালত সূত্র জানায়, সাইফুল্লাহ মাসুদ নামের একজন ব্যবসায়ী ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির হয়ে মো. সাহেদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে পৃথক দুটি মামলা করেন। একটি মামলায় এক কোটি টাকা ও অন্যটিতে ২ কোটি ৫৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। ওইদিনই সাহেদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামেও একটি মামলা দায়ের হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here